মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত দিয়েই এ সংস্থার যাত্রা। দেশে অনেক ফেডারেশন থাকলেও মহিলা খেলোয়াড়দের চালিকা শক্তি হিসেবে এখন মহিলা ক্রীড়া সংস্থা বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে এ সংস্থার কর্মকাণ্ড চোখে পড়ার মতো। যোগ্যতা থাকলে অনেক কঠিন কাজ যে জয় করা যায় তার বড় উদাহরণ হতে পারে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। বছর তিনেক আগেও এ কমপ্লেক্সে তেমন প্রাণচাঞ্চল্য ছিল না। এ নিয়ে বিতর্কও কম ওঠেনি। শুধু তাই নয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংস্থার কমিটিও বিলুপ্তি করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু পাল্টে গেছে এখন সে দৃশ্য। বাংলাদেশে পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে হাতে গোনা যে কজন জনপ্রিয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রয়েছেন তাদের মধ্যে কামরুন নাহার ডানা অন্যতম। ব্যাডমিন্টনে দেশ কাঁপিয়ে ছিলেন তিনি। তিনবার দেশ সেরা খেতাবও পান। খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসর নিলেও এ অঙ্গন ছেড়ে যাননি। সংগঠক হিসেবেও অনেক আগেই বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছেন। হ্যান্ডবল ফেডারেশন, কাবাডি ফেডারেশন ছাড়াও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে নির্বাচনী কমিটিতে আছেন তিনি। বিসিবি ও বাফুফে কাউন্সিলরও তিনি। বর্তমান পরিচয় তার মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে ঘিরে। একবার নয় এ নিয়ে তিনি তিনবার সংস্থার সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ কেউ তার সমালোচনা করলেও অনেকে এক বাক্যে স্বীকার করেন ডানা সাধারণ সম্পাদিকার চেয়ারে বসলে এ কমপ্লেক্সে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে। ২০০৪ সালে মৌলবাদীদের আন্দোলনের ভয়ে দেশে যখন মহিলাদের ফুটবল খেলা মাঠে নামানোর সাহস পাচ্ছিল না কেউ। ডানা তখন মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মেয়েদের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল চালু করেন।অথচ এখন মহিলা ফুটবলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে  বাফুফেতে তার ঠাঁই নেই। এ নিয়ে ডানা আফসোসও করেন না। তিনি বলেন, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার উন্নয়নই এখন আমার বড় চিন্তা। গতকাল ধানমন্ডি সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ঘুরে তার প্রমাণ মিলল। ডানা বলেন, কমিটির সবার সহযোগিতায় আমরা কমপ্লেক্সের উন্নয়ন ঘটাচ্ছি। তবে কমিটির অনেকে আবার বলেন, ডানা আপা যে সময় দেন তা অন্যদের দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উনিই মূলত পরিশ্রমটা করছেন। আগে ২/৩টি খেলা বা প্রশিক্ষণের মধ্যে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ ছিল। ডানা অবশ্য বলেন, ২০০৪ সালে তিনি সাধারণ সম্পাদিকা থাকা অবস্থায় সংস্থায় অনেক ইভেন্ট শুরু করেন। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, হ্যান্ডবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, জুডো, জিমন্যাস্টিকস, ফুটবল, দাবা, ক্রিকেট, আরচারী, অরোবিটস, কাবাডি, মার্শাল আর্ট, তায়কান্দো, বাস্কেটবল ও হ্যান্ডবল-বাস্কেটবলে মিশ্রণে নতুন খেলা নেটবল চালু করবে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা।